নারীবাদ, হিজাব ও বিজ্ঞান (পেপারব্যাক)
0 Ratings
0 Answered Questions
By (Authors) : ড. আহমদ আবদুল কাদের
Save 45 BDT
Summary:
নারীবাদ আজকের যুগের একটি ফ্যাশন। এটি নারীর অধিকার রক্ষার কথা বলে শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে এটি কার্যত পুরুষবিরোধী একটি শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। নারীপুরুষের পার্থক্য মুছে দিয়ে এটি ক্লীবলিঙ্গধর্মী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতে বিরাজমান পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ এবং তাদের প্রাকৃতিক দায়িত্ব পালনকে বাদ দিয়ে ক্লীবলিঙ্গের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে নারীবাদ। আধুনিক বিজ্ঞান এহেন নারীবাদী তত্ত্বকে নাকচ করেছে। বিজ্ঞান এ জাতীয় প্রকৃতিবিরোধী অস্বাভাবিক তত্ত্ব সমর্থন করে না। তাই প্রাকৃতিক নিয়ম যে নির্দেশনা দেয়, তারই আলোকে নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে সমাজ গড়ে তুলবে। মানবজাতিকে সমন্বয়ধর্মী সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। তা না করে যদি সমন্বয়কে পরিহার করে একপেশে তত্ত্ব দিয়ে সমাজকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এটি হবে মানবতার জন্যে ধ্বংসের খাদ খনন। তাই আমাদের সমাজের দুই প্রধান অংশকে গুরুত্ব দিয়ে সবার দায়দায়িত্ব মেনে নিয়ে সমাজ নির্মাণ করতে হবে। তাহলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হবে। অন্যথায় বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য সমাজকে কুরে কুরে খাবে। আমি এ গ্রন্থে এটি প্রমাণের চেষ্টা করেছি।
হিজাব ইসলামের একটি আবশ্যিক বিধান। একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটি কুরআন দ্বারা নির্দেশিত। প্রত্যেক মুসলিমকেই এর গুরুত্ব স্বীকার করতে হবে। ব্যাখ্যায় মতপার্থক্য থাকলেও হিজাবের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সব ধর্মেই নারীদের শালীন পোশাক পরিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে আধুনিক যুগে নারীদের শালীন পোশাক বা হিজাবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে বিশেষত মুসলিম বিশ্বে হিজাবের অবস্থান নিয়ে এ গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া হিজাবের সীমা সম্পর্কে যেসব মতবিরোধ আছে, তাও আমরা এ গ্রন্থের পরিশিষ্টে আলোকপাত করেছি। এমনকি সকল মাজহাব-মসলকের প্রতিনিধিত্বশীল পণ্ডিতদের হিজাববিষয়ক মতপার্থক্য তুলে ধরেছি।
কোনো মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তাই আমার এ গ্রন্থেও ভুলত্রুটি থাকতে পারে পরবর্তী সংস্করণে ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের যাবতীয় ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং সঠিক কথা অনুধানের তওফিক দিন - আমিন।
